বিভিন্ন পত্রিকায় এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আমার সব লেখার লিঙ্ক এখানে পাওয়া যাবে। এছাড়াও কেবল এখানেই রইল, এমন লেখাও থাকবে এই লেখালেখির বাড়িঘরে।
Showing posts with label Bengali story online. Show all posts
Showing posts with label Bengali story online. Show all posts
Tuesday, 30 June 2015
Sunday, 19 May 2013
ছুটি-ঘড়ি-আর সব
আমার দিদার একটা রিস্টওয়াচ ছিলো। দিদা আর ছোড়দিদা দুজনের একটাই ঘড়ি। আমি যখন ক্লাস এইট-এ, তখন বোধহয় মামা ওনাদের কিনে দিয়েছিলেন ঘড়িটা। মামা বলেছিলেন দুজনকে দুটো কিনে দেবেন, কিন্তু দিদারা রাজি হননি। টাইটান-এর ঘড়ি। আমরা কেউই ঘড়িটা ওনাদের খুব বেশি পরতে দেখিনি। আমার তো মনে পড়েনা।
অথচ একদম যে বাড়ি থেকে বেরতেন না, তাও নয়, মাসে একবার অন্তত বেরতেই হত পেনশন আনতে, তখন পরতেন সরু পাড়ের সাদা ছাপা অথবা তাঁতের শাড়ী, প্রথম শর্ত শাড়ীটা নরম হতে হবে, এতটুকু বেশি মাড়ওয়ালা খড়মড়ে শাড়ী হলে চলবেনা। সঙ্গে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ, যেটা ওনারা কখনোই ঠিকমতো কাঁধে নিতেননা, হাতেই থাকতো।
আমরা যখন স্কুলের লম্বা ছুটিতে মামারবাড়ি যেতাম, আমাদের সেবাড়ির প্রতি আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিল দিদার এই পেনশন তুলতে যাওয়া। সেদিন সকালে দিদা স্নান করে তৈরি হয়ে বেরোতেন। উনি বেরনোর সময় যে হাল্কা ওডিকোলনের গন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে থাকত, সেটাও মামারবাড়িকে ভালোলাগার আরেকটা কারণ ছিলো। মায়েদের ব্যবহারের ‘সেণ্ট’-এ কেন যে সেই গন্ধটা পেতাম না ছোটবেলায় বুঝতাম না, এটাও বুঝতাম না, মা, মাসিমণিরা কেন ওডিকোলন ব্যবহার করতেন না।
দিদা বাইরে বেরনোর পরে উন্মুখ হয়ে থাকতাম কখন উনি ফিরবেন। কারণ, ফেরার পরেই ব্যাগ থেকে একে-একে বেরোতো ঠোঙাভর্তি সাদা চক, চিনি বসানো নরম রঙ্গিন জেলি লজেন্স, কখনো বাদাম-তক্তি।
যখন ঘড়িটা কেনা হয়েছে ততদিনে আমার কাছে মামারবাড়ির আকর্ষণের ক্ষেত্র বদলেছে, আমি খুঁজে পেয়েছি সাত টাকা দামের ‘সেলাম প্রফেসর শঙ্কু’, মামার পৈতেয় পাওয়া ‘শার্লক হোমস অমনিবাস’, প্রায় তিরিশ বছর আগের কেনা রবীন্দ্ররচনাবলী আর পুরনো বইয়ের গন্ধ। তা-ও দিদার পেনশন আনতে বেরনোর সাজটি আমি মন দিয়েই লক্ষ্য করতাম, ঘড়িটা কখনো হাতে দেখিনি। ছোড়দিদা, মানে দিদার সাতবছরের ছোট বোন, তিনিও সেটা কখনো হাতে পরেননি। ঘড়িটা বসার ঘরের শোকেসের উপর সুন্দর কেসের মধ্যে প্যাক করে রাখা থাকতো। কোনও আত্মীয় বন্ধু বাড়িতে এলে ওনারা কিন্তু কখনো জানাতে ভুলতেন না যে ছেলে ওনাদের ঘড়ি কিনে দিয়েছে!
মামা ঘড়িটা দেখলেই রেগে যেতেন। তিনি শখ করে কিনে এনেছিলেন মা-মাসি ঘড়ি পরবে বলে, সেটাকে প্যাকেটমোড়া হয়ে থাকতে দেখলে রাগ তো হবেই।
মামা ঘড়িটা দেখলেই রেগে যেতেন। তিনি শখ করে কিনে এনেছিলেন মা-মাসি ঘড়ি পরবে বলে, সেটাকে প্যাকেটমোড়া হয়ে থাকতে দেখলে রাগ তো হবেই।
বছরখানেক কেটেছে। মামার বিয়ের কিছুদিন পরে, বোধহয় ক্লাস নাইনের পুজোর ছুটি, ঠিক মনে নেই। একদিন দিদাদের মনে হলো আমার সামনে মাধ্যমিক, সময় দেখে পড়াশুনা করা এবং পরীক্ষায় ঘড়ি পরে যাওয়া অতি আবশ্যক। সন্ধ্যেবেলা মামা বাড়ি ফিরলে দিদা বললেন “আমরা আর ঘড়ি কোথায় পরে যাই? এখানে ওটা পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হবে, ওটা আমরা তুতুকে দিচ্ছি। ওর এখন সামনে পরীক্ষা, ঘড়ি খুব দরকার"। অগত্যা আমায় নিতেই হলো। এখন বলছি বটে “নিতেই হলো”, তখন মনে হয়েছিল একলাফে আমি পনেরো থেকে আঠেরোর কোঠায় পৌঁছে গিয়েছি। এর আগে বাবাকে একবার বলেছিলাম ঘড়ি না থাকার অসুবিধার কথা, বাবা-মা চটজলদি সমাধানরূপে মায়ের বিয়ের ঘড়ি এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা হাতে গলিয়ে দেখেওছিলাম, জিনিসটা ঘড়ি না চুড়ি কি ভাবলে ভাল লাগবে বুঝতে পারিনি বলে আর পরা হয়নি। এখন ঘড়িটা হাতে পেয়ে কি আর করবো, খুবই কুন্ঠিত মুখ করে হাতে নিলাম। সেবার ছুটির পর টানা সাতদিন স্কুলে পরে গিয়েছিলাম ঘড়িটা। ক্লাসের মোটামুটি সবাইকে দেখিয়ে উত্তেজনাটা একটু কমেছিলো, তারপর শুধু পরীক্ষাতেই হাতে বেঁধে যেতাম। পরীক্ষার প্রথম দিন বোধহয় মিনিট পনেরো বেশি সময় লেগেছিল ঘড়িটাকে মন দিয়ে লক্ষ্য করতে গিয়ে।
এরপর বেশ কয়েকটা বছর কেটেছে। উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছি, দিদা আমাদের ছেড়ে ওনার পূর্বপুরুষদের কাছে গিয়েছেন, আমি অপ্রত্যাশিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে শুরু করেছি, কিন্তু ঘড়িটাকে ছাড়তে পারিনি। এই ক'বছরে বার দুয়েক ব্যাণ্ড পাল্টাতে হয়েছে, তাছাড়া সে ঘড়ি দিব্যি সুস্থ থেকে আমায় সময় দিয়েছে।
স্কুলের পরীক্ষা-যুদ্ধে আমার স্থায়ী কিছু অস্ত্র ছিল-----একটা রবার ব্যাণ্ড জড়ানো ভাঙ্গা সবুজ রেনল্ডস জেটার পেন, একটা হাল্কা সবুজ (রংটা একমাত্র আমিই বুঝতে পারতাম) রুমাল, যেটায় জেটার-এর ধেবড়ে যাওয়া অক্ষমতার বহু চিহ্ন মুছে রাখা থাকত, আর ক্লাস নাইন থেকে এই ঘড়িটা। কলেজে আসা, হোস্টেল গোছানো, এসবের মাঝে কবে যেন পেনটা আর রুমালটা হারিয়ে ফেলেছি। ঘড়ির সাথে সম্পর্কটা আর ভাঙতে পারিনি।
ঘড়িটা হাতে পরলে মনে হত দিদা যা যা দেখে যেতে পারেননি, সেসব দেখুক এই ঘড়ি। আমার পরীক্ষায় পাশ, চাকরি, প্রথম প্রেম, অনুরাগ, অভিমান, সবকিছুরই সাক্ষী রুপোলি ডায়াল আর সোনালি কাঁটার ঘড়িটা।
বয়স বাড়লো, সময় এল ছোট্টবেলার অগোছালো ঘর ছেড়ে মনের মানুষের ঘর গোছাতে যাওয়ার, সেই উপলক্ষ্যে সাথে নিলাম টাইটান রাগা-র এক সোনালি সুন্দরী তন্বীকে। বড় হওয়ার অনুভূতি জানা রুপোলি ডায়াল অবশ্য আমার সাথেই নতুন সংসারে গেল। আমার ধারণা ছিল ওটা সঙ্গে না থাকলে আমি ভালো থাকবো না। অষ্টমঙ্গলায় বাড়ি এসে মনে হল ঘড়িটার একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। অনেকগুলো বছর আমার সাথে থেকেছে, আমার নানা অত্যাচার সয়েছে, এবার আমার পরীক্ষা দেওয়ার পালা। দেখি বড় হয়েছি কিনা। তুলে রাখলাম যত্ন ক'রে।
বছর খানেক কেটেছে তারপর। একদিন মনটা খুব অগোছালো হয়ে রয়েছে, টাইম মেশিনে বছর পনেরো পিছিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে, মনে পড়লো ঘড়িটার কথা। খুঁজতে লাগলাম। মনে পড়ছে না কিছুতেই কোথায় রেখেছি। ঘণ্টাখানেক হয়ে গেছে ওলোটপালোট করছি আমার আলমারি, বইএর তাক, সম্ভাব্য অসম্ভাব্য সমস্ত জায়গা। এক-একটা সেকেণ্ড মনে হচ্ছে অনন্তকাল। শেষ অবধি ঘড়িটা পাওয়া গেল বিয়ের গয়নার বাক্স থেকে।
এতক্ষণের গলার ব্যথাটা এখন চোখের জল হয়ে অঝোরধারে বেরিয়ে এল। কেন কাঁদছি নিজেই বুঝছি না, কান্না থামাতেও পারছিনা, বয়সটা যেন সত্যিই পিছিয়ে গেছে বছর পনেরো আগে। এটা কী অনেকদিন পর ছোটবেলার সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আনন্দ? নাকি ছোটবেলাটাই হারিয়ে ফেলেছি, সেই কষ্ট? জানিনা। তবে, এই প্রায় মাঝতিরিশেও যে ষোলোর মতোই চোখ জলে ভেসে যায় না জানা কারণে, ঘড়িটা খুঁজে না পেলে জানতেই পারতাম না।।
এরপর বেশ কয়েকটা বছর কেটেছে। উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছি, দিদা আমাদের ছেড়ে ওনার পূর্বপুরুষদের কাছে গিয়েছেন, আমি অপ্রত্যাশিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে শুরু করেছি, কিন্তু ঘড়িটাকে ছাড়তে পারিনি। এই ক'বছরে বার দুয়েক ব্যাণ্ড পাল্টাতে হয়েছে, তাছাড়া সে ঘড়ি দিব্যি সুস্থ থেকে আমায় সময় দিয়েছে।
স্কুলের পরীক্ষা-যুদ্ধে আমার স্থায়ী কিছু অস্ত্র ছিল-----একটা রবার ব্যাণ্ড জড়ানো ভাঙ্গা সবুজ রেনল্ডস জেটার পেন, একটা হাল্কা সবুজ (রংটা একমাত্র আমিই বুঝতে পারতাম) রুমাল, যেটায় জেটার-এর ধেবড়ে যাওয়া অক্ষমতার বহু চিহ্ন মুছে রাখা থাকত, আর ক্লাস নাইন থেকে এই ঘড়িটা। কলেজে আসা, হোস্টেল গোছানো, এসবের মাঝে কবে যেন পেনটা আর রুমালটা হারিয়ে ফেলেছি। ঘড়ির সাথে সম্পর্কটা আর ভাঙতে পারিনি।
ঘড়িটা হাতে পরলে মনে হত দিদা যা যা দেখে যেতে পারেননি, সেসব দেখুক এই ঘড়ি। আমার পরীক্ষায় পাশ, চাকরি, প্রথম প্রেম, অনুরাগ, অভিমান, সবকিছুরই সাক্ষী রুপোলি ডায়াল আর সোনালি কাঁটার ঘড়িটা।
বয়স বাড়লো, সময় এল ছোট্টবেলার অগোছালো ঘর ছেড়ে মনের মানুষের ঘর গোছাতে যাওয়ার, সেই উপলক্ষ্যে সাথে নিলাম টাইটান রাগা-র এক সোনালি সুন্দরী তন্বীকে। বড় হওয়ার অনুভূতি জানা রুপোলি ডায়াল অবশ্য আমার সাথেই নতুন সংসারে গেল। আমার ধারণা ছিল ওটা সঙ্গে না থাকলে আমি ভালো থাকবো না। অষ্টমঙ্গলায় বাড়ি এসে মনে হল ঘড়িটার একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। অনেকগুলো বছর আমার সাথে থেকেছে, আমার নানা অত্যাচার সয়েছে, এবার আমার পরীক্ষা দেওয়ার পালা। দেখি বড় হয়েছি কিনা। তুলে রাখলাম যত্ন ক'রে।
বছর খানেক কেটেছে তারপর। একদিন মনটা খুব অগোছালো হয়ে রয়েছে, টাইম মেশিনে বছর পনেরো পিছিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে, মনে পড়লো ঘড়িটার কথা। খুঁজতে লাগলাম। মনে পড়ছে না কিছুতেই কোথায় রেখেছি। ঘণ্টাখানেক হয়ে গেছে ওলোটপালোট করছি আমার আলমারি, বইএর তাক, সম্ভাব্য অসম্ভাব্য সমস্ত জায়গা। এক-একটা সেকেণ্ড মনে হচ্ছে অনন্তকাল। শেষ অবধি ঘড়িটা পাওয়া গেল বিয়ের গয়নার বাক্স থেকে।
এতক্ষণের গলার ব্যথাটা এখন চোখের জল হয়ে অঝোরধারে বেরিয়ে এল। কেন কাঁদছি নিজেই বুঝছি না, কান্না থামাতেও পারছিনা, বয়সটা যেন সত্যিই পিছিয়ে গেছে বছর পনেরো আগে। এটা কী অনেকদিন পর ছোটবেলার সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আনন্দ? নাকি ছোটবেলাটাই হারিয়ে ফেলেছি, সেই কষ্ট? জানিনা। তবে, এই প্রায় মাঝতিরিশেও যে ষোলোর মতোই চোখ জলে ভেসে যায় না জানা কারণে, ঘড়িটা খুঁজে না পেলে জানতেই পারতাম না।।
Thursday, 2 May 2013
Mission mobile
গতবছরের মাঝামাঝি একদিন। সকালে রোজকার মতো চুঁচুড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছি। ওঠার আগে মহুয়া, অমৃতা, মৌসুমীদের মিসড কল দিয়ে ট্রেনের খবর জানিয়েছি। চন্দননগরে বাকিরা ট্রেনে উঠল, অমৃতার দেখা নেই। অথচ আমার সাথে ফোনে কথা হয়েছে, ও আমাদের সাথে কাটোয়া লোকাল ধরবে বলেই অটোয় আসছিলো। দিব্যি সময় হাতে নিয়ে বেরিয়েছে, ট্রেন না পাওয়ার কোনো কারণ-ই নেই। তাহলে? "ফোন কর" বলতে বলতে মৌসুমী ডায়াল করল। Not reachable. মিনিটখানেক বাদে আবার। এবার রিং হচ্ছে। কিন্তু দুবার রিং হতেই ফোন কেটে দিলো। আছে কোথায় মেয়েটা? এবার আমি রিং করলাম। একবার ফোন কাটার পর রিসিভ হলো, কিন্তু ওপাশে তো অমৃতা নেই, এক পুরুষকন্ঠ! আমি প্রায় চিৎকার করে উঠলাম "আপনি কে? ফোন আপনি পেলেন কোথায়?" ফোন চুরি হয়েছে, এই ভয়-ই পাচ্ছিলাম সবাই, তা-বলে এত সাহসী চোর? চোরাই ফোনে আসা কল রিসিভ করছে!
যদিও ফোনে লোকটার কথা শুনে সত্যি চোর কিনা বোঝা যচ্ছিলোনা, সে বলছিল ফোনটা অটোয় কুড়িয়ে পেয়েছে। একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি কুড়িয়ে পেয়ে ফোন রিসিভ না করে কেটে দিচ্ছিল কেন, আমাদের ফোনটা ফেরত
পেতে হবে, এই ভেবেই ও-কথা আর তুললাম না।
গলাটা একটু নরম করে বললাম "আপনি কোথায় আছেন এখন? যেখানে আছেন প্লিজ সেখানেই দাড়ান, আমার ভাইকে পাঠাচ্ছি এক্ষুণি"। উত্তর এল "পাদ্রীপাড়ার কাছে Raymond দোকানের কাছে একটা ফেলাট উঠছে, ওইখেনেই আছি। ভাইকে তাড়াতাড়ি আসতে বলুন"।
আমি লোকটার নিজের ফোন নম্বর চেয়ে নিলাম। ক্রসচেক করার জন্য মহুয়া নম্বরটায় ডায়াল করে ব্যস্ত হয়ে আমার হাতে দিলো ওর ফোন, ঠিক-ই তো, আমিই একমাত্র লোকটার গলা চিনি। দেখলাম আমাদের ভয় অমূলক, লোকটা, মানে, গুরুপদ মন্ডল, ফোন ধরল। ইতিমধ্যে রেশমি অমৃতার বাড়ির ফোনে কল করেছে। কি ভাগ্যিস নম্বরটা সেভড ছিল! ওর ভাইকে সব বোঝানো হলো, এর মাঝে অমৃতা বাড়ি ফিরেছে। ওরা দুজন তক্ষুণি বেরিয়ে পড়ল গুরুপদ মন্ডল এবং ফোনের উদ্দেশ্যে।
আমরা ততক্ষণে নিজেদের থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে গিয়েছি। ট্রেনের ওই অঞ্চলের প্রায় সবার মুখেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ফুটে উঠছে। ব্রততীর হঠাৎ মনে পড়ল ওর বর এখন জ্যোতির মোড়ের কাছে আছে। "ওকেও ফোন করে লোকটার কাছে যেতে বলি, বল? ও তো তাড়াতাড়ি পৌঁছবে" খবর পৌঁছলো যথাস্থানে।
মিনিট পাঁচেক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। তারপর-ই ব্রততীর ফোনে খবর এলো, রাজকন্যে উদ্ধার হয়েছেন! গুরুপদ মন্ডল নাকি সাতসকালে এহেন কান্ডে অত্যন্ত বিরক্ত, শ্যামনগর যাওয়ার কথা ওনার, অনেক দেরি হয়ে গেল।
আরও কিছুক্ষণ পর ফোন পৌঁছলো তার নিজের বাড়ি। শুনলাম অমৃতা নাকি ফোন হারিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অটোতেই একটু কেঁদে নিয়েছিল!
আমাদের 'মোবাইল উদ্ধার অভিযান'-এর ঘোর কাটিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ট্রেন কারশেড ঢুকছে। ভাবা যায়! অন্যদিন এই রাস্তাটা আসতে আমরা কতবার ঘড়ি দেখি, আর আজ! সকালটা কাটলো টানটান উত্তেজনায়।
এমন ঘটনা মাঝেমাঝে ঘটলে তবু বৈচিত্র্য আসে জীবনে! অবশ্য এই বৈচিত্র্যপূর্ণ 'অভিযান' মজার স্মৃতি হয়ে রয়েছে গুরুপদ মন্ডলের সৌজন্যে। লোকটাকে আমরা প্রথমে চোর-ই ভেবেছিলাম, জানিনা সে কি উদ্দেশ্যে ফোনটা কুড়িয়ে নিয়েছিল, তবে শেষপর্জন্ত ফোন ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের পরিশ্রম সার্থক করেছিলো!
যদিও ফোনে লোকটার কথা শুনে সত্যি চোর কিনা বোঝা যচ্ছিলোনা, সে বলছিল ফোনটা অটোয় কুড়িয়ে পেয়েছে। একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি কুড়িয়ে পেয়ে ফোন রিসিভ না করে কেটে দিচ্ছিল কেন, আমাদের ফোনটা ফেরত
পেতে হবে, এই ভেবেই ও-কথা আর তুললাম না।
গলাটা একটু নরম করে বললাম "আপনি কোথায় আছেন এখন? যেখানে আছেন প্লিজ সেখানেই দাড়ান, আমার ভাইকে পাঠাচ্ছি এক্ষুণি"। উত্তর এল "পাদ্রীপাড়ার কাছে Raymond দোকানের কাছে একটা ফেলাট উঠছে, ওইখেনেই আছি। ভাইকে তাড়াতাড়ি আসতে বলুন"।
আমি লোকটার নিজের ফোন নম্বর চেয়ে নিলাম। ক্রসচেক করার জন্য মহুয়া নম্বরটায় ডায়াল করে ব্যস্ত হয়ে আমার হাতে দিলো ওর ফোন, ঠিক-ই তো, আমিই একমাত্র লোকটার গলা চিনি। দেখলাম আমাদের ভয় অমূলক, লোকটা, মানে, গুরুপদ মন্ডল, ফোন ধরল। ইতিমধ্যে রেশমি অমৃতার বাড়ির ফোনে কল করেছে। কি ভাগ্যিস নম্বরটা সেভড ছিল! ওর ভাইকে সব বোঝানো হলো, এর মাঝে অমৃতা বাড়ি ফিরেছে। ওরা দুজন তক্ষুণি বেরিয়ে পড়ল গুরুপদ মন্ডল এবং ফোনের উদ্দেশ্যে।
আমরা ততক্ষণে নিজেদের থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে গিয়েছি। ট্রেনের ওই অঞ্চলের প্রায় সবার মুখেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ফুটে উঠছে। ব্রততীর হঠাৎ মনে পড়ল ওর বর এখন জ্যোতির মোড়ের কাছে আছে। "ওকেও ফোন করে লোকটার কাছে যেতে বলি, বল? ও তো তাড়াতাড়ি পৌঁছবে" খবর পৌঁছলো যথাস্থানে।
মিনিট পাঁচেক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। তারপর-ই ব্রততীর ফোনে খবর এলো, রাজকন্যে উদ্ধার হয়েছেন! গুরুপদ মন্ডল নাকি সাতসকালে এহেন কান্ডে অত্যন্ত বিরক্ত, শ্যামনগর যাওয়ার কথা ওনার, অনেক দেরি হয়ে গেল।
আরও কিছুক্ষণ পর ফোন পৌঁছলো তার নিজের বাড়ি। শুনলাম অমৃতা নাকি ফোন হারিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অটোতেই একটু কেঁদে নিয়েছিল!
আমাদের 'মোবাইল উদ্ধার অভিযান'-এর ঘোর কাটিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ট্রেন কারশেড ঢুকছে। ভাবা যায়! অন্যদিন এই রাস্তাটা আসতে আমরা কতবার ঘড়ি দেখি, আর আজ! সকালটা কাটলো টানটান উত্তেজনায়।
এমন ঘটনা মাঝেমাঝে ঘটলে তবু বৈচিত্র্য আসে জীবনে! অবশ্য এই বৈচিত্র্যপূর্ণ 'অভিযান' মজার স্মৃতি হয়ে রয়েছে গুরুপদ মন্ডলের সৌজন্যে। লোকটাকে আমরা প্রথমে চোর-ই ভেবেছিলাম, জানিনা সে কি উদ্দেশ্যে ফোনটা কুড়িয়ে নিয়েছিল, তবে শেষপর্জন্ত ফোন ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের পরিশ্রম সার্থক করেছিলো!
Subscribe to:
Posts (Atom)