গতবছরের মাঝামাঝি একদিন। সকালে রোজকার মতো চুঁচুড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছি। ওঠার আগে মহুয়া, অমৃতা, মৌসুমীদের মিসড কল দিয়ে ট্রেনের খবর জানিয়েছি। চন্দননগরে বাকিরা ট্রেনে উঠল, অমৃতার দেখা নেই। অথচ আমার সাথে ফোনে কথা হয়েছে, ও আমাদের সাথে কাটোয়া লোকাল ধরবে বলেই অটোয় আসছিলো। দিব্যি সময় হাতে নিয়ে বেরিয়েছে, ট্রেন না পাওয়ার কোনো কারণ-ই নেই। তাহলে? "ফোন কর" বলতে বলতে মৌসুমী ডায়াল করল। Not reachable. মিনিটখানেক বাদে আবার। এবার রিং হচ্ছে। কিন্তু দুবার রিং হতেই ফোন কেটে দিলো। আছে কোথায় মেয়েটা? এবার আমি রিং করলাম। একবার ফোন কাটার পর রিসিভ হলো, কিন্তু ওপাশে তো অমৃতা নেই, এক পুরুষকন্ঠ! আমি প্রায় চিৎকার করে উঠলাম "আপনি কে? ফোন আপনি পেলেন কোথায়?" ফোন চুরি হয়েছে, এই ভয়-ই পাচ্ছিলাম সবাই, তা-বলে এত সাহসী চোর? চোরাই ফোনে আসা কল রিসিভ করছে!
যদিও ফোনে লোকটার কথা শুনে সত্যি চোর কিনা বোঝা যচ্ছিলোনা, সে বলছিল ফোনটা অটোয় কুড়িয়ে পেয়েছে। একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি কুড়িয়ে পেয়ে ফোন রিসিভ না করে কেটে দিচ্ছিল কেন, আমাদের ফোনটা ফেরত
পেতে হবে, এই ভেবেই ও-কথা আর তুললাম না।
গলাটা একটু নরম করে বললাম "আপনি কোথায় আছেন এখন? যেখানে আছেন প্লিজ সেখানেই দাড়ান, আমার ভাইকে পাঠাচ্ছি এক্ষুণি"। উত্তর এল "পাদ্রীপাড়ার কাছে Raymond দোকানের কাছে একটা ফেলাট উঠছে, ওইখেনেই আছি। ভাইকে তাড়াতাড়ি আসতে বলুন"।
আমি লোকটার নিজের ফোন নম্বর চেয়ে নিলাম। ক্রসচেক করার জন্য মহুয়া নম্বরটায় ডায়াল করে ব্যস্ত হয়ে আমার হাতে দিলো ওর ফোন, ঠিক-ই তো, আমিই একমাত্র লোকটার গলা চিনি। দেখলাম আমাদের ভয় অমূলক, লোকটা, মানে, গুরুপদ মন্ডল, ফোন ধরল। ইতিমধ্যে রেশমি অমৃতার বাড়ির ফোনে কল করেছে। কি ভাগ্যিস নম্বরটা সেভড ছিল! ওর ভাইকে সব বোঝানো হলো, এর মাঝে অমৃতা বাড়ি ফিরেছে। ওরা দুজন তক্ষুণি বেরিয়ে পড়ল গুরুপদ মন্ডল এবং ফোনের উদ্দেশ্যে।
আমরা ততক্ষণে নিজেদের থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে গিয়েছি। ট্রেনের ওই অঞ্চলের প্রায় সবার মুখেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ফুটে উঠছে। ব্রততীর হঠাৎ মনে পড়ল ওর বর এখন জ্যোতির মোড়ের কাছে আছে। "ওকেও ফোন করে লোকটার কাছে যেতে বলি, বল? ও তো তাড়াতাড়ি পৌঁছবে" খবর পৌঁছলো যথাস্থানে।
মিনিট পাঁচেক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। তারপর-ই ব্রততীর ফোনে খবর এলো, রাজকন্যে উদ্ধার হয়েছেন! গুরুপদ মন্ডল নাকি সাতসকালে এহেন কান্ডে অত্যন্ত বিরক্ত, শ্যামনগর যাওয়ার কথা ওনার, অনেক দেরি হয়ে গেল।
আরও কিছুক্ষণ পর ফোন পৌঁছলো তার নিজের বাড়ি। শুনলাম অমৃতা নাকি ফোন হারিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অটোতেই একটু কেঁদে নিয়েছিল!
আমাদের 'মোবাইল উদ্ধার অভিযান'-এর ঘোর কাটিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ট্রেন কারশেড ঢুকছে। ভাবা যায়! অন্যদিন এই রাস্তাটা আসতে আমরা কতবার ঘড়ি দেখি, আর আজ! সকালটা কাটলো টানটান উত্তেজনায়।
এমন ঘটনা মাঝেমাঝে ঘটলে তবু বৈচিত্র্য আসে জীবনে! অবশ্য এই বৈচিত্র্যপূর্ণ 'অভিযান' মজার স্মৃতি হয়ে রয়েছে গুরুপদ মন্ডলের সৌজন্যে। লোকটাকে আমরা প্রথমে চোর-ই ভেবেছিলাম, জানিনা সে কি উদ্দেশ্যে ফোনটা কুড়িয়ে নিয়েছিল, তবে শেষপর্জন্ত ফোন ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের পরিশ্রম সার্থক করেছিলো!
যদিও ফোনে লোকটার কথা শুনে সত্যি চোর কিনা বোঝা যচ্ছিলোনা, সে বলছিল ফোনটা অটোয় কুড়িয়ে পেয়েছে। একবার ভাবলাম জিজ্ঞেস করি কুড়িয়ে পেয়ে ফোন রিসিভ না করে কেটে দিচ্ছিল কেন, আমাদের ফোনটা ফেরত
পেতে হবে, এই ভেবেই ও-কথা আর তুললাম না।
গলাটা একটু নরম করে বললাম "আপনি কোথায় আছেন এখন? যেখানে আছেন প্লিজ সেখানেই দাড়ান, আমার ভাইকে পাঠাচ্ছি এক্ষুণি"। উত্তর এল "পাদ্রীপাড়ার কাছে Raymond দোকানের কাছে একটা ফেলাট উঠছে, ওইখেনেই আছি। ভাইকে তাড়াতাড়ি আসতে বলুন"।
আমি লোকটার নিজের ফোন নম্বর চেয়ে নিলাম। ক্রসচেক করার জন্য মহুয়া নম্বরটায় ডায়াল করে ব্যস্ত হয়ে আমার হাতে দিলো ওর ফোন, ঠিক-ই তো, আমিই একমাত্র লোকটার গলা চিনি। দেখলাম আমাদের ভয় অমূলক, লোকটা, মানে, গুরুপদ মন্ডল, ফোন ধরল। ইতিমধ্যে রেশমি অমৃতার বাড়ির ফোনে কল করেছে। কি ভাগ্যিস নম্বরটা সেভড ছিল! ওর ভাইকে সব বোঝানো হলো, এর মাঝে অমৃতা বাড়ি ফিরেছে। ওরা দুজন তক্ষুণি বেরিয়ে পড়ল গুরুপদ মন্ডল এবং ফোনের উদ্দেশ্যে।
আমরা ততক্ষণে নিজেদের থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সে নিয়ে গিয়েছি। ট্রেনের ওই অঞ্চলের প্রায় সবার মুখেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ফুটে উঠছে। ব্রততীর হঠাৎ মনে পড়ল ওর বর এখন জ্যোতির মোড়ের কাছে আছে। "ওকেও ফোন করে লোকটার কাছে যেতে বলি, বল? ও তো তাড়াতাড়ি পৌঁছবে" খবর পৌঁছলো যথাস্থানে।
মিনিট পাঁচেক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। তারপর-ই ব্রততীর ফোনে খবর এলো, রাজকন্যে উদ্ধার হয়েছেন! গুরুপদ মন্ডল নাকি সাতসকালে এহেন কান্ডে অত্যন্ত বিরক্ত, শ্যামনগর যাওয়ার কথা ওনার, অনেক দেরি হয়ে গেল।
আরও কিছুক্ষণ পর ফোন পৌঁছলো তার নিজের বাড়ি। শুনলাম অমৃতা নাকি ফোন হারিয়ে বাড়ি ফেরার সময় অটোতেই একটু কেঁদে নিয়েছিল!
আমাদের 'মোবাইল উদ্ধার অভিযান'-এর ঘোর কাটিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি ট্রেন কারশেড ঢুকছে। ভাবা যায়! অন্যদিন এই রাস্তাটা আসতে আমরা কতবার ঘড়ি দেখি, আর আজ! সকালটা কাটলো টানটান উত্তেজনায়।
এমন ঘটনা মাঝেমাঝে ঘটলে তবু বৈচিত্র্য আসে জীবনে! অবশ্য এই বৈচিত্র্যপূর্ণ 'অভিযান' মজার স্মৃতি হয়ে রয়েছে গুরুপদ মন্ডলের সৌজন্যে। লোকটাকে আমরা প্রথমে চোর-ই ভেবেছিলাম, জানিনা সে কি উদ্দেশ্যে ফোনটা কুড়িয়ে নিয়েছিল, তবে শেষপর্জন্ত ফোন ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের পরিশ্রম সার্থক করেছিলো!