আজ রাখীপূর্ণিমা। বোনেরা বড় যত্নে আজ ভাইদের হাতে রাখী বেঁধে দিয়েছেন, কেউ কেউ হয়তো হাজার কয়েক মাইল দূরে প্রবাসে রয়েছেন, হাতে রাখী বাঁধার আনন্দ তাঁদের মেটাতে হয়েছে স্কাইপে বা ফেসবুকেই। সারাদিন ধরেই বোনেদের আদরে প্রণামে ভাইদের জীবন মঙ্গলময় হয়ে উঠেছে, ভাইদের আশিসে শ্রদ্ধায় বোনেরা ঋদ্ধ হয়েছেন। রাখীপূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে ক্রমশঃ প্রকাশ্যের পক্ষ থেকে সব বন্ধুদের জন্য রইল শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা, ডোকা -লা কিংবা কার্গিল, সিয়াচেন কিংবা জালেপ -লা, এইসব জায়গাগুলোতেও কিন্তু ছড়িয়ে রয়েছেন আমাদেরই ভাইয়েরা, বন্ধুরা। ওঁরা ওখানে রাতের পর রাত জাগছেন বলেই আমরা এত নিশ্চিন্তে রাখী, বন্ধুদিবস যাপন করতে পারছি। আসুন না, আমরা প্রত্যেকে একবারের জন্য হলেও মনে মনে রাখী পরিয়ে দিই সেইসব ভাই আর বন্ধুদের।
আমার চেনা দুই দিদির ভাই সেনাবাহিনীর কর্মী। কার্গিলে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁকে যেতে হয়েছিল। গল্প শুনেছি, যুদ্ধের দিনগুলোয় বাড়িতে অশীতিপর বাবা-মাকে কোনো খবর জানানো হত না। দুইবোনে রাত্রে বাগানে গিয়ে কেঁদে হাল্কা হতেন। আশা করি, সেই ভাইবোনের রাখীবন্ধন উৎসব সুখে কাটছে।
হাওড়া-ব্যাণ্ডেল মেন লাইনের ট্রেনে হকারি করেন বিশুদা। কখনও টর্চ, কখনও ছাতা কিংবা ব্যাগ, তাঁর পসরা বদলে যায় মাঝেমধ্যে। দু -তিনবার রাত দশটার পরের কোনও ট্রেনে দেখা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। ট্রেন ভদ্রেশ্বর পেরোনোর পর মহিলা কামরায় হয়ত দুজন যাত্রী, আশ্বাস পেয়েছি বিশুদার কাছে, "এই বিশুদা ট্রেনে থাকলে দিদি লাস্ট ট্রেনেও কোনও চিন্তা নেই তোমাদের"। আজকের উৎসব তাঁর জন্যও।
বাবলু ভাইয়া, আমাদের পাড়ার কিছু কচিকাঁচা পড়ুয়াদের স্কুলভ্যানের সারথি। গত সপ্তাহে পরপর দু'দিন তাদের বাড়ি আসার সময় আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি। ভাবছি, বাচ্চাগুলো বোধহয় ভিজেই যাবে। ভ্যান এলো, দেখলাম বাচ্চাদের গায়ে বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও লাগেনি, তবে ভ্যান থেকে নেমে গাড়ির জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাবলু ভাইয়া ভিজে চান করে গেছেন। তবে তাতে তিনি বিরক্ত নন, বাচ্চাদের গায়ে যে জল লাগেনি এতেই তিনি খুশি। আজ রক্ষাবন্ধনের উৎসবের একজন শরিক তিনিও।
তবুও আমরা কি এঁদের একশো শতাংশ বিশ্বাস করতে পারি? অবিশ্বাস করছি, এটা ভাবলে বুকে কাঁটা বেঁধে, তাও আমরা নিরুপায়। পরিস্থিতি আমাদের কাছ থেকে বিশ্বাস করার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে। আজকের এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়েও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, "মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ"। সেই পাপের বোঝা যাতে আমাদের খুব বেশি বইতে না হয়, রাখীবন্ধন উৎসবের দিনে মঙ্গলময়ের কাছে এই প্রার্থনা রইল।
বন্ধুরা, ডোকা -লা কিংবা কার্গিল, সিয়াচেন কিংবা জালেপ -লা, এইসব জায়গাগুলোতেও কিন্তু ছড়িয়ে রয়েছেন আমাদেরই ভাইয়েরা, বন্ধুরা। ওঁরা ওখানে রাতের পর রাত জাগছেন বলেই আমরা এত নিশ্চিন্তে রাখী, বন্ধুদিবস যাপন করতে পারছি। আসুন না, আমরা প্রত্যেকে একবারের জন্য হলেও মনে মনে রাখী পরিয়ে দিই সেইসব ভাই আর বন্ধুদের।
আমার চেনা দুই দিদির ভাই সেনাবাহিনীর কর্মী। কার্গিলে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁকে যেতে হয়েছিল। গল্প শুনেছি, যুদ্ধের দিনগুলোয় বাড়িতে অশীতিপর বাবা-মাকে কোনো খবর জানানো হত না। দুইবোনে রাত্রে বাগানে গিয়ে কেঁদে হাল্কা হতেন। আশা করি, সেই ভাইবোনের রাখীবন্ধন উৎসব সুখে কাটছে।
হাওড়া-ব্যাণ্ডেল মেন লাইনের ট্রেনে হকারি করেন বিশুদা। কখনও টর্চ, কখনও ছাতা কিংবা ব্যাগ, তাঁর পসরা বদলে যায় মাঝেমধ্যে। দু -তিনবার রাত দশটার পরের কোনও ট্রেনে দেখা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। ট্রেন ভদ্রেশ্বর পেরোনোর পর মহিলা কামরায় হয়ত দুজন যাত্রী, আশ্বাস পেয়েছি বিশুদার কাছে, "এই বিশুদা ট্রেনে থাকলে দিদি লাস্ট ট্রেনেও কোনও চিন্তা নেই তোমাদের"। আজকের উৎসব তাঁর জন্যও।
বাবলু ভাইয়া, আমাদের পাড়ার কিছু কচিকাঁচা পড়ুয়াদের স্কুলভ্যানের সারথি। গত সপ্তাহে পরপর দু'দিন তাদের বাড়ি আসার সময় আকাশ ভাঙ্গা বৃষ্টি। ভাবছি, বাচ্চাগুলো বোধহয় ভিজেই যাবে। ভ্যান এলো, দেখলাম বাচ্চাদের গায়ে বৃষ্টির ছিটেফোঁটাও লাগেনি, তবে ভ্যান থেকে নেমে গাড়ির জানলা বন্ধ করতে গিয়ে বাবলু ভাইয়া ভিজে চান করে গেছেন। তবে তাতে তিনি বিরক্ত নন, বাচ্চাদের গায়ে যে জল লাগেনি এতেই তিনি খুশি। আজ রক্ষাবন্ধনের উৎসবের একজন শরিক তিনিও।
তবুও আমরা কি এঁদের একশো শতাংশ বিশ্বাস করতে পারি? অবিশ্বাস করছি, এটা ভাবলে বুকে কাঁটা বেঁধে, তাও আমরা নিরুপায়। পরিস্থিতি আমাদের কাছ থেকে বিশ্বাস করার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে। আজকের এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়েও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, "মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ"। সেই পাপের বোঝা যাতে আমাদের খুব বেশি বইতে না হয়, রাখীবন্ধন উৎসবের দিনে মঙ্গলময়ের কাছে এই প্রার্থনা রইল।
No comments:
Post a Comment