"ওই ফর্সাপানা মেয়েটা কে গো দিদা, হিরোইনের মতো? আর সঙ্গে ওই কিরিম মাখা বাচ্চাটা?"
"ও মা, ও তো আমার মেয়ে, তোর তুতুলমাসি। বাচ্চাটা ওর ছেলে, আমার দাদুভাই। আজ কত বচ্ছর পর দেশে এসেছে, ক'মাস থাকবে এখন।"
"হ্যা:! ওইটা নাকি তোমার মেয়ে! তোমার মেয়ে তো ওই ফটোকের তুতুলমাসি, রোজ বিকেলে খেলে এসে তোমার কাছে বসে মাথায় তেল মেখে বিনুনি বেঁধে দুধমুড়ি খেয়ে পড়তে বসতো। এমন হিরোইনপানা মেয়ে কখনও মাথায় তেল দেয়? নাকি দুধমুড়ি খায়?"
"না রে পাগলি, ওটাই আমার মেয়ে, তোর তুতুলমাসি। তোরা আসার পরে আর আসেনি তো, তাই চিনতে পারছিস না। নে নে, অনেক বকেছিস, যা ওপর ঘর থেকে গ্রামার বইটা নিয়ে আয়, ক'টা ট্রান্সলেশন দিই।"
একটু পরে দৌড়ে দৌড়ে ঘরে ঢোকে ছোট্ট দুটো হরিণ-পায়ের মালকিন, হাতে গ্রামার বই আর আরেকটা মোটা বই।
"ও দিদা, ওই মেয়েটা 'আরে আরে জাগমোন ' জানে! আমিও বলতে পেরেছি দেখে হাততালি দিয়ে নেচে নিলো একপাক। আমি 'হুঁকোমুখো'ও বলতে পেরেছি, তাই আমায় এটা দিলো, আর বলল জাগমোন নয়, জগোমোহোন।"
"দেখলি! তোকে উচ্চারণ ঠিক করতে বলি, শুনিস না।"
"এটা তো তুতুলমাসির বই দিদা, ও কেন দিলো এটা? তোমার মেয়ের বইয়ের আলমারি থেকে একটা করে বই নামাচ্ছিল আর শুঁকছিল, বুকে জড়াচ্ছিল আর চোখ মুছছিল, কেন গো? তুতুলমাসিও বইগুলোকে আদর করতো না এরম করেই, তুমি বলো মাঝেমাঝে? তাহলে কি এটাই তুতুলমাসি, হ্যাঁ দিদা?"
"হ্যাঁ রে বাবা হ্যাঁ। বিশ্বাস হলো এবার? মাথায় তেল আর দুধমুড়ি নেই, কিন্তু তোর তুতুলমাসি আছে, ঠিক সেইইরকম।"
(সমাপ্ত)
ধারাবাহিক : ক্রমশ প্রকাশ্য - kromosho prokashyo তে প্রকাশিত
No comments:
Post a Comment